ঘূর্ণিঝড় থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ‘আম্পান’ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ২৪৫ কিলোমিটার বেগে

ঘূর্ণিঝড় থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ‘আম্পান’ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ২৪৫ কিলোমিটার বেগে

ঘূর্ণিঝড় থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ‘আম্পান’ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ২৪৫ কিলোমিটার বেগে

 এএনবিঃ ঘূর্ণিঝড় থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ‘আম্পান’ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ২৪৫ কিলোমিটার বেগে

বঙ্গোপসাগরে তৈরী হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আম্ফান আঘাত হানলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে এবং বাতাসের গতিবেগ প্রতিঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার হতে পারে। এদিকে এখনো পূর্বের সংকেতই অব্যাহত আছে, তবে দুএক ঘণ্টার মধ্যে মহাবিপদ সংকেত আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বুধবার (২০ মে) ভোরে খুলনা হয়ে চট্টগ্রামের উপকূলে আঘাত হানবে আম্পান। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলে প্রথম আঘাত হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

ঘূর্ণিঝড়টির পরিধি বড় হওয়ায় তা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলেও যোগ করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আজ ভোররাত থেকে আগামীকাল বুধবার বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ও এর সংলগ্ন এলাকাগুলোকে ৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর ও এর সংলগ্ন এলাকাগুলোকে ৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও, ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ট্রলারকে অতিদ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।