চারদিক দিয়ে ভারতকে ‘চেপে’ ধরছে চীন!

চারদিক দিয়ে ভারতকে ‘চেপে’ ধরছে চীন!

চারদিক দিয়ে ভারতকে ‘চেপে’ ধরছে চীন!

এএনবি (ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক) ঃ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ক্রমশ কমে আসছে। বিপরীতে চীনের প্রভাব বাড়ছে। এতদিন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শুধু চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গেই দ্বন্দ ছিল ভারতের। বাকি তিন প্রতিবেশী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও নেপালের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই সম্পর্কে ফাটল তৈরি হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।

সেখানে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের উপস্থিতি দীর্ঘ দিনের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার কথা সর্বজনবিদিত। এখন শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়।

এমনকি ভারতের প্রতি সহানুভূতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ, নেপাল ও আফগানিস্তানেও চীনারা প্রভাব বিস্তার করছে। এক্ষেত্রে সেখানে তারা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তাদের সাহায্যের জোরেই দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত নেপাল নয়াদিল্লির সঙ্গে সীমানা বিরোধে জড়িয়েছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অমীমাংসিত রয়েছে ঢাকার। এখন সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক এই নদীটির বাংলাদেশ অংশে চীন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমন খবর প্রকাশের পরই আকস্মিক সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। যদিও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার উদ্দেশ্যে এই সফর করা হয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।

এদিকে, এমন অবস্থার মধ্যেই আবারও অস্বস্তিতে পড়েছে ভারত সরকার। ২৪ আগস্ট পাকিস্তানের উদ্যোগে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ খবরকে অধিকাংশ ভারতীয় গণমাধ্যমেই 'দুঃসংবাদ' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

দ্য প্রিন্ট জানায়, চীন যে শুধু ভারতের ভূখণ্ডের ভেতরেই প্রবেশ করেছে এমনটি নয়। মনে হচ্ছে, তারা চারদিক থেকে ভারতকে ঘিরে ফেলছে। প্রতিবেশী আফগানিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় চীন প্রসারিত হচ্ছে এক অভিসম্ভাবি শক্তি হিসেবে। এমতাবস্থায় নয়াদিল্লির প্রভাব আবারও ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কারিশমার ওপরই নির্ভর করতে হবে।

প্রতিবেদনে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মাণে চীনা ঠিকাদারের টেন্ডার জয়ের পাশাপাশি কক্সবাজারে অত্যাধুনিক নৌঘাঁটি ও পটুয়াখালীতে নতুন নৌঘাঁটি এবং সে সব নৌঘাঁটিকে শক্তিশালী করতে চীনের সামরিক সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের কথাও বলা হয়েছে।