ড্রেনে দুধ ফেলে দিচ্ছেন ফার্ম মালিকরা!

মৌলভীবাজার, ০৩ মে - মৌলভীবাজারে ডেইরি ফার্মগুলোতে প্রতিদিন অন্তত কয়েক লাখ টাকার দুধ উৎপাদিত হলেও বিক্রির অভাবে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদিত দুধ বিক্রি না করতে পেরে ফার্ম মালিকরা ড্রেনে দুধ ফেলে দিচ্ছেন। মৌলভীবাজার জেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের...

ড্রেনে দুধ ফেলে দিচ্ছেন ফার্ম মালিকরা!
মৌলভীবাজার, ০৩ মে - মৌলভীবাজারে ডেইরি ফার্মগুলোতে প্রতিদিন অন্তত কয়েক লাখ টাকার দুধ উৎপাদিত হলেও বিক্রির অভাবে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদিত দুধ বিক্রি না করতে পেরে ফার্ম মালিকরা ড্রেনে দুধ ফেলে দিচ্ছেন। মৌলভীবাজার জেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহির ফারুক জানান, করোনা পরিস্থিতিতে প্রত্যেক দিন কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এ জেলার ফার্ম মালিকরা। এসব ক্ষতি পোষাতে সরকারের কাছে তিনি অনুদান দাবি করছেন। একই সঙ্গে সরকারকে ফার্মের কাছ থেকে সরাসরি দুধ কেনার দাবি জানান তিনি। জহির ফারুক জানান, শুধুমাত্র এ জেলার ডেইরি ফার্ম থেকেই প্রতিদিন অন্তত ১৪ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। এদিকে মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার জানান, জেলার ডেইরি ফার্মগুলো ছাড়াও প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে গাভী পালনে উৎপাদিত দুধ মিলিয়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৪৩ হাজার লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে। দুগ্ধ শিল্পে আর্থিক সফলতা আসায় বিগত এক যুগের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের একান্ত প্রচেষ্টায় মূলত জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় সাতশো ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, সাধারণ সময়ে জেলায় প্রতিদিন উৎপাদিত ৭৫ শতাংশ দুধ সিলেটসহ অন্য জেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আর বাকি ২৫ শতাংশ দুধ মৌলভিবাজার জেলার চাহিদা মেটায়। স্থানীয় রাজু ডেইরি ফার্মের পরিচালক রাজু আহমদ জানান, তার ফার্ম থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৪০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। রাজু আরও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের দুধ সংগ্রহকারী একাধিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেকারিগুলো একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে এ জেলায় প্রতিদিন উৎপাদিত কয়েক লাখ টাকার দুধ বিক্রির অভাবে নষ্ট হচ্ছে। রাজু আহমদ জানান, দুধ বিক্রি না হওয়াতে আশপাশের লোকজনকে বিলিয়ে দেওয়ার পরও তা ড্রেনে ফেলে দিতে হচ্ছে। তার ফার্মে ৭০টি গাভী রয়েছে। এদের দেখাশোনার দায়িত্বে পাঁচজন শ্রমিক। করোনা পরিস্থিতিতে খরচাপাতি বেড়ে যাওয়াতে তার ফার্ম চালানো এখন কষ্টকর হয়ে পড়ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার করোনা পরিস্থিতিতে এ দুগ্ধ শিল্পের আর্থিক ক্ষতির কথা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার কথা জানিয়েছেন। সুত্র : আমাদের সময় এন এ/ ০৩ মে