পীরগাছায় প্রভাবশালী দ্বারা ক্যানেলের মুখ বন্ধ ছয় বছর থেকে আবাদ হচ্ছে না শত শত হেক্টর জমি

পীরগাছায় প্রভাবশালী দ্বারা ক্যানেলের মুখ বন্ধ ছয় বছর থেকে আবাদ হচ্ছে না শত শত হেক্টর জমি

পীরগাছায় প্রভাবশালী দ্বারা ক্যানেলের মুখ বন্ধ  ছয় বছর থেকে আবাদ হচ্ছে না শত শত হেক্টর জমি



এএনবি মোঃ গোলাম আযম সরকার (পীরগাছা) রংপুরঃ
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের, সুখানপুকুর ,কিসামত সুখান পুকুর, কিসাম ঝিনিয়া ,পবিত্র ঝাড়, আরাজী ঝিনিয়া, বড় পানসিয়া মৌজায় কয়েক লক্ষ লোকের বসবাস, এই সব মৌজার পনি বের হওয়ার একমাত্র রাস্ত্রা হলো চকচকার দোলা হয়ে ব্রিটিশ আমলের একটি ক্যানেল , বেশ কয়েক বছর আগে সেই ক্যানেলটি বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী, তাদের অজুহাত হলো তারা মৎস্য চাষ করছেন। যদিও তারা পানি বের হওয়ার জন্য পূর্বের  ক্যানেলের পরিবর্তে নতুন একটি ছোট ক্যানেল তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেটিরও মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রভাবশালীর একজন, মুলত প্রভাব দেখার জন্য এই প্রতিযোগিতা তাদের। 
তাদের প্রভাব দেখানো খেলায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে ওই ছয়টি গ্রামের অসহায় শত শত কৃষক, তারা বিগত ছয় বছর থেকে কোন প্রকার আবাদ করতে পারছেন না বলে এ প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন।
এদিকে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন ওই এলাকার সমস্ত কুষক, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমীন প্রধান , উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। 
সহকারী কমিশনার ভূমি আবার উপজেলা  কানুনগো কে সরেজমিনে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দিতে নিদেশ দেন। রবিবার দুপুরে কানুনগো  চকচকার দোলায় সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে এলাকাবাসি অভিযোগের সত্যাতা পেলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, এখানে যে সব পুকুর খনন করা হয়েছে, সেগুলো উপজেলা প্রশাসন এদেরকে অনুমতি দেই নি। এরা মুলত জোর খাতিয়ে এই সব পুকুর খনন করেছেন। 
কৃষকদের জমি আগে, কুষকদের জমি না থাকলে আবাদ হবে কেমনে, যদি আবাদ না হয়, তাহলে দেখা দিবে উপজেলায় ধান সহ  গো-খাদ্র্যর অভাব্, তিনি এসময় উপস্থিত সকলকে বলেন, আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে সহকারি কমিশনার (ভ’মি)  স্যারের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একই সাথে পূর্বের ক্যানেল উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনে জমির পচাঁয় কালি  করা হবে।  
ওই এলাকার আব্দুল মাজেদ মিয়া জানান, এই কয়েকটি মৌজার দোলায় পনি যাওয়ার একটি রাস্তা ছিল , সেটি হল নলঝিঞ্জির ব্রীজ। এই ব্রীজের সামনে একটি  নালা ছিল।  ওই এলাকার প্রভাশালী  মৎস্য চাষীরা অন্যায় ভাবে সেই নালাটি দখল করে পুকুর খনন করেছেন।  প্রভাবশালীরা হলেন,  ১। মোঃ মামুন মিয়া, ২। মোঃ হাসেম আলী, ৩। শ্রী সমুন চন্দ্র, ৪। মোঃ মাসুম মিয়া, ৫। মাহফুজার রহমান,৬। মোঃ রুবেল মিয়া। 

তিনি জানান, এই সব প্রভাবশালী মৎস্য চাষীদের কারনে আমাদের শত শত একর আবাদি জমি আজ পানি বন্দি হয়ে চাষাবাদ বিনষ্ট হচ্ছে। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে আমরা দেখে আসছি , কুরান হাজির পুকুর থেকে নলঝিঞ্জির ব্রীজ পর্যন্ত একটি  নালা ছিল। সে নালাটির পশ্চিম দিকে মোঃ মামুন মিয়া পুকুর খনন করেছেন।  আমার উপজেলা প্রশাসনের কাছে  পানি নিষ্কাশন সহ নালাটি পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদন করেছিলাম, আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমীন প্রধান  সরেজমিনে তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভ’মি) কে দায়িত্বদেন, সহকারী কমিশনার (ভ’মি) আবার কাুননগোকে দিয়ে আজ তদন্ত করলেন। 
এব্যাপরে মামুন মিয়া বলেন, আমি চাই ক্যানেলটি পূর্বের জায়গায় হউক, আমি পূর্বের স্থানে ক্যানেলটি করার জন্য জায়গা ছেড়েদিতে রাজি আছি, তবে এই  এলাকার মুরুব্বিদেরকে বলতে হবে পূর্বের  ক্যানেলটি কোথায় ছিল?