রংপুরে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন বিক্রি বেড়েছে তালপাখার

গরমের হাত থেকে বাচতে মানুষ এখন তালপাতা পাখা কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন ফুটপতে হাত পাখার দোকান গুলোতে গিয়ে দেখা যায় পাখা বিক্রির হিরিক।

রংপুরে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন বিক্রি বেড়েছে তালপাখার

আসাদুজ্জামান আফজাল রংপুরঃ
রাতের দিকে লোডশেডিং ও আবহাওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত হয়ে হড়েছে রংপুর নগরীর মানুষ। প্রচন্ড গরমে মাঝ রাতে অথবা ভোরের দিকে লোডশেডিং হওয়ায় মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে নাভিশ্বাস। গরমের হাত থেকে বাচতে মানুষ এখন তালপাতা পাখা কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন ফুটপতে হাত পাখার দোকান গুলোতে গিয়ে দেখা যায় পাখা বিক্রির হিরিক। শুধু নগরীতে নয় জেলার ৮ উপজেলার হাটগুলোতেই তালপাতা ও কাপড়ের পাকার দোকানে উপচে পড়া ভিড়। চাতিদা বাড়ায় পাখার কিছুটা মুল্যও বেড়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে বর্তমানে রংপুর প্রায় ৩০থেকে ৪০ ডিগ্রী তাপমাত্রা বিরাজ করচে। জৈষ্ঠ্য মাস চলাকালে এটি স্বাভাবিক তাপমাত্র। দেশের আকাশে মৌসুমী বায়ু না থাকায় একদিকে বৃষ্টি ছিল না। রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ বুধবার থেকে দেশের আকাশে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করবে। মৌসুমী বায়ু আকাশে থাকলেই বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। চলতি সপ্তাহেই আষাঢ়ের বৃষ্টি পাবে নগরবাসী।

রংপুর নগরীর কাচারী বাজারের তাহ পাখা বিক্রেতা ইমরান মিয়া জানান তালপাতার পাখার বিক্রি এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভাল। মানুষ তালপাতার পাখার উপর ঝুকে পড়েছেন। তবে অনেক কাপড়ের পাখাও কিনছেন। ফুটপাতের আরেক বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন তিনি নিজে তালপাতার পাখা বানিয়ে বিক্রি করেন। বছরে ২/৩ মাস তালপাতার পাখার বিশি চাহিদা থাকে। চৈত্র থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত বিক্রির মৌসুম হলেও চৈত্র ও বৈশাখ মাসই পাখা বিক্রির উপযুক্ত সময়। প্রচন্ড তাপদাহ চলার এই সময়টাতে তালপাতার পাখার প্রয়োজন বেশি হয়ে থাকে। ফলে এ সময় আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের অন্যান্য মাসে তালপাতার পাখার তৈরির কাজ ও বিক্রি চললেও শীত এলে বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া এসব পাখা এখন বাইরের জেলা থেকে কিনতে হয়। হাত পাখার পাইকারী বিক্রেতা আবুল হাসান জানান হাতপাখা বেশি বিক্রি হলেও লাভ হচ্ছে কম। প্রতিটি জিনিসেরই দাম বেশি। পাখা তৈরি করতে রং সুতা বাশ কঞ্চি তালের পাতার প্রয়োজন হয়। এসবের দাম বাড়ায় তাহ পাখা তৈরীতে লাভ কম হচ্ছে। তাল পাখা কাপড়ের পাখা ও সুতার পাখাও পাওয়া যায়। তবে প্রকার ভেদে ২৫ থকে ৯০ টাকা পর্যন্ত পাখা পাওয়া যায়। হাত পাখা ক্রেতা নগরীর মিস্তিপাড়ার লাল মিয়া ও সাগরপাড়ার মেহেদি হাসান জানান, তিনি ৪ টি তালের পাখা কিনেছেন। গরমে বেশি হলে বাসার সকলেই হাত পাখা খোজে তাই বেশি করে কেনা। সব সময় পাখা পাওয়া যায় না।