সংবাদ সম্মেলনে ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন

শামসুল হুদা নামে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের পুরাতন আটোয়ারী এলাকার ওই মুক্তিযোদ্ধা সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন

সংবাদ সম্মেলনে ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন

পঞ্চগড় প্রতিনিধিপঞ্চগড়ে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করায় আসামিদের হুমকিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এমন কি দিন দুপুরে হত্যা করে আসামিরা ঘুরে বেড়ালেও তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

শামসুল হুদা নামে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের পুরাতন আটোয়ারী এলাকার ওই মুক্তিযোদ্ধা সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন। 

লিখিত বক্তব্যে ওই মুক্তিযোদ্ধা জানান, একই এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে নুর আলমের আম গাছের কয়েকটি ডাল তার পাট ক্ষেতে হেলে পড়ে। নুর আলমের বাবা ইসমাইলকে বিষয়টি জানিয়ে ডালগুলো কেটে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আমিনুল ইসলাম আমিন (৩২)। গাছের ডাল কেটে দেয়ায় নুর আলম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। গত ১৯ মে দুপুরে ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আমিন বাড়ির পাশের ওই পাট ক্ষেতে সার দিতে গেলে তার সাথে ডাল টাকা নিয়ে নুর আলমের পরিবারের কয়েকজনের তর্ক হয়। সার দিয়ে বাড়ি ফিরে যায় আমিন। কিছুক্ষণ পর একই এলাকার নুর ইসলাম নুরু আমিনকে সীমানা দেখানোর জন্য ডেকে ওই ক্ষেতে নিয়ে যায়। সীমানা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নুর আলম ও তার পরিবারের লোকজন আমিনের উপর লাঠিশোঠা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তাদের সাথে যোগ দেয় নুর ইসলাম ও তার ছেলে আলমগীরও। সবাই মিলে আমিনকে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। নুর আলম লোহার শাবল দিয়ে আমিনের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তারা আবারো কোদাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। তাকে উদ্ধার করতে গেলে আমিনের চাচা জয়নুল হকের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তারা। মারধরের পর তারা হুমকি ধামকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পরে আমিন ও জয়নুলকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের লোকজন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওই দিন রাতেই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আমিন। ২১ মে আটোয়ারী থানায় ৭ জনকে আসামি করে হত্যা  মামলা করে নিহত আমিনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা।

মামলার আসামীরা হলেন, আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের পুরাতন আটোয়ারী এলাকার ইসমাইল হোসেন (৫৫), তার স্ত্রী শাহিনা বেগম (৫২), তার তিন ছেলে নুর আলম (২৫), সাহিদুল ইসলাম শাকিব (১৮), রইসুল ইসলাম (২০), একই এলাকার নুর ইসলাম নুরু (৫৮), তার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৩)।

সংবাদ সম্মেলনে ওই মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন বলেন, মামলার পর থেকেই ক্রমাগত হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে আসামিরা। এমনকি পুলিশ মূল আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারছে না। দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও তারা দিব্যি জামিনে বেড়িয়ে এসে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। ছেলে হত্যার মামলা করে উল্টো আসামিদের হুমকিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তারা দ্রæত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা অশ্রæসিক্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সামান্য ডালকাটা নিয়ে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। মামলা করার পরও পুলিশ আসামিদের ধরছে না। দিন দুপুরে হত্যাকাÐ করেও আসামিরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার ছেলে হত্যার সাথে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি । যেন আর কেউ এভাবে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মানুষকে হত্যা করার সাহস না পায়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নিহত আমিনের বড় ভাই শহীদুল জব্বার শাহিন, মামা মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মির্জা সাবদারুল ইসলাম মুক্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব হাসান রাজুসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এ বিষয়ে আটোয়রারী থানার ওসি ইজার উদ্দিন বলেন, ওই মামলায় আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।