স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বাংলাদেশ সচিবালয়ের অনেকেই

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বাংলাদেশ সচিবালয়ের অনেকেই

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বাংলাদেশ সচিবালয়ের অনেকেই

এএনবি ঃ সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মানছেন না দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক দফতর বাংলাদেশ সচিবালয়ে । শুধু ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থাকার নির্দেশনা শতভাগ পালন হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বয়স্ক ও সন্তানসম্ভবা নারীরাও অফিস করছেন না।

তবে ২৫ শতাংশের কোটায় যারা আসছেন তারা কোনোমতে সই বা ডিজিটাল হাজিরা দিয়েই ‘কাজ শেষ’ বলে চলে যাচ্ছেন। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলে যাচ্ছেন ‘জুমে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে থাকবো’ বলে। সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ঘুরে দেখা গেছে, রুমের পর রুম খালি পড়ে আছে, কিন্তু কেউ নেই। গত কয়েকদিন সচিবালয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ঘুরে এসব দৃশ্য চোখে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধীনস্থ দফতর ও প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে পালনের জন্য অনুরোধ করা হলেও তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না সচিবালয়ে। এখানে অনেকটাই উপেক্ষিত সরকারের দেওয়া ১২ নির্দেশনা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেহের তাপমাত্রা মাপার জন্য বলা হলেও অনেক মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথে সে ব্যবস্থা নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আসছেন তারা নিজেদের মতো করে নির্দিষ্ট রুমে প্রবেশ করছেন এবং সিটে বসছেন।

শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার রুম আগের মতোই ব্লিচিং পাউডার ও ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। যদিও সরকারের স্বাস্থ্যবিধিতে জীবাণুনাশক দিয়ে রুম পরিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি দফতরের প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রবেশপথে তা রাখার ব্যবস্থা পর্যন্ত চোখে পড়েনি। আবার অনেক স্থানে দেখা গেছে, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল খালি পড়ে আছে। তাতে স্যানিটাইজার নেই। জানতে চাইলে চটপট উত্তর ‘এইমাত্র শেষ হয়ে গেছে’। 

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকে মুখে মাস্ক ব্যবহার করলেও তা অনেককেই থুতনির নিচে নামিয়ে রাখতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলছেন, ‘মুখে মাস্ক রেখে কথা বলা যায় না। আবার কথা বোঝাও যায় না। তাই নামিয়ে রেখেছি।’ অনেককে তা পকেটে রেখে দিতেও দেখা গেছে। মাস্ক ব্যবহার করছেন না কেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই জানিয়েছেন, ‘এই যে পকেটে আছে’। সচিবালয়ে আসা বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতেই গ্লাভস দেখা যায়নি। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। কয়েকজন কর্মচারীকে পিপিই পরে অফিসে আসতে দেখা গেছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের সাপোর্টিং স্টাফদের পিপিই পরে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনের জন্য গাড়ি জীবাণুমুক্ত করার কথা বলা হলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই তাতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা অনেকেই বলেছেন, ‘পরিবহন পুলের গাড়ি ব্যবহার করি, পরিবহন পুল কর্তৃপক্ষ গাড়ি কতটুকু জীবাণুমুক্ত করে জানি না, তবে আমরা নিজেরা সিটে বসার আগে নিজেদের কাছে থাকা স্যাভলন বা জীবাণুনাশক ছিটিয়ে বসি। কী আর করার।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আমরা ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি পরিবহন পুলের প্রবেশপথে এমন করে রেখেছি, যাতে গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় গাড়ির চাকা পুরোটাই ওই পানিতে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত হচ্ছে। তিনি জানান, গাড়ির ভেতর জীবাণুমুক্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই সম্পদ ও জনবল আমাদের নেই। যিনি গাড়ি ব্যবহার করছেন তিনি নিজ উদ্যোগে এবং নিজের ব্যবস্থাপনায় গাড়ির ভেতর জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন জানিয়েছেন, সরকারের অন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা অধিদফতর কী করে জানি না। তবে আমার মন্ত্রণালয় থেকে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে এবং তা কঠোরভাবে মনিটরও করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত রয়েছেন। ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে মন্ত্রণালয় চলছে। এ জন্য আমরা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক ২৩ দফা নির্দেশনাও জারি করেছি। তারপরও দুঃখজনক যে আমি নিজে এই মুহূর্তে আইসোলেশনে রয়েছি। কারণ, আমার পিএসসহ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬ জন করোনা পজিটিভ।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংশোধিত ১২টি নির্দেশনা জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত স্বাস্থ্যবিধি সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধীনস্থ দফতর ও প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে পালনের জন্য অনুরোধ করা হয়।