স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কালো তালিকায় ১৪ প্রতিষ্ঠান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকা মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের এমএসআর, ভারী মেশিন ও সামগ্রী কেনা-কাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। ওই অভিযোগ তদন্ত করে দুদক। এর পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান দুদক সচিব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কালো তালিকায় ১৪ প্রতিষ্ঠান

এএনবি ঃ প্রতারণা, দুর্নীতি ও চক্রান্তের অভিযোগে অবশেষে ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন গতকাল বুধবার এ নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

 এ সংক্রান্ত নথি পত্র দৃষ্টে জানা যায়, কালো তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরঞ্জাম কেনাকাটার ক্ষেত্রে ১৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ মাস আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতি, প্রতারণা ও চক্রান্তের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তখন কোনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকা মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের এমএসআর, ভারী মেশিন ও সামগ্রী কেনা-কাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। ওই অভিযোগ তদন্ত করে দুদক। এর পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান দুদক সচিব। ওই চিঠিতে ১৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ৬ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ক্রয় ও সংগ্রহ অধিশাখা দুদকের ওই সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের পরিচালকে চিঠি দেয়।

নথি থেকে জানা যায়, দুর্নীতির মাধ্যমে ১৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই ১৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৯টি মামলাও রয়েছে। ২০১৮ ও ১৯ সালে মামলাগুলো করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

উল্লেখ্য, করোনার মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের নানা বিষয় সামনে আসতে থাকে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এর মধ্যেই গত কয়েক দিনে দেশের কোনো কোনো জায়গায় কিটের সংকটে কোভিড টেস্ট বন্ধ থাকার খবর বের হয়। এ অবস্থায় সম্প্রতি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এক ফেসবুক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান যাতে, স্বাস্থ্যবিভাগের ‘মিঠু সিন্ডিকেট’ ভাঙার ব্যবস্থা করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা হতে থাকে। তার মধ্যেই ১৪ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার খবর পাওয়া গেল।