স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অপসারণের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি

মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে নকল মানহীন এন ৯৫ মাস্ক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পাঠানোর সঙ্গে সরাসারি জড়িত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অপসারণের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি

এএনবি ঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) অপসারণের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টর’স সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটি (এফডিএসআর)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান  অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ও মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও।।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে লেখা চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ও তার অনুগ্রহভাজনদের কর্মকাণ্ডে, অনিয়ম, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির এক আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে নকল মানহীন এন ৯৫ মাস্ক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পাঠানোর সঙ্গে সরাসারি জড়িত ছিলেন। শুরু থেকে এই মহাপরিচালক বলে এসেছেন যে, তার দফতর কভিড মোকাবেলায় প্রস্তুত। অথচ চিকিৎসকদের শুরুতে তারা পিপিই দিতে পারেননি। শুধু তা-ই নয়, তাদের প্রস্তুতিহীনতা পদে পদে সরকারকে বিব্রত করেছে।

‘আবুল কালাম আজাদ শুরুতে বলেছেন, বাংলাদেশের আর্দ্রতার কারণে কোভিড বেশি দিন স্থায়ী হবে না। তারপর বলেছেন, দিনে ৬৫ হাজার রোগী হবে। তারপর আবার বলেছেন, এই রোগ দেশে তিনবছর বা তার বেশিও থাকতে পারে। এভাবে তিনি দেশের মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বারবার বিভ্রান্ত করেছেন।’ 

‘চূড়ান্ত অনিয়ম করে তিনি ভুঁইফোড়, অভিজ্ঞতাহীন জেকেজি হেলথকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কভিড রোগীর ভাইরাল স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। জেকেজি অসাধু তৎপরতা চালিয়ে রোগীদের স্যাম্পল ফেলে দিয়ে জাল রিপোর্ট দিয়েছে ও বেআইনিভাবে টাকা নিয়েছে। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে নিরীহ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের পকেট মেরেছে। এই মহাপরিচালক তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পত্রিকায় বলেছেন যে, জেকেজিকে সতর্ক করা হয়েছে। অথচ নিয়মানুযায়ী তাদের কাজ স্থগিত করে, তদন্ত ও মামলা করার কথা।’

এসব উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্লজ্জ, দুর্নীতিবাজ এই মহাপরিচালককে অপসারণ করে তার দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে তার ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছে চিঠিতে।  চিঠিতে অবিলম্বে এই মহাপরিচালককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার দুর্নীতির তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।