২০ জুন থেকে বাজারে পাওয়া যাবে রংপুরের সুস্বাদু হাড়ি ভাঙ্গা আম

এবার রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে হাড়িভাঙ্গার ফলন হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টরে।

২০ জুন থেকে বাজারে পাওয়া যাবে রংপুরের সুস্বাদু হাড়ি ভাঙ্গা আম

আসাদুজ্জামান আফজাল রংপুর
সুস্বাদের কারণে হাড়ি ভাঙ্গা আম সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হয়ে যাওয়ার পরই এই আম বাজারে পাওয়া যাবে। কৃষি অফিসের মতে হাড়িভাঙ্গা আম গাছ থেকে পারা শুরু হবে ২০ জুন থেকে। ঝড় বাদলে কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন ভালো হয়েছে। পরিবহন ও বাজারজাত নিশ্চিত হলে শুধু হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে রংপুরের চাষিরা ২০০ কোটি টাকার ওপর ঘরে তুলতে পারবে বলে আশা করছেন কৃষি অফিস।  


রংপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এবার রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে হাড়িভাঙ্গার ফলন হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টরে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। এবার আশা করা হচ্ছে গতবছরের চেয়ে ফলন বেশি হবে। সেই হিসেবে শুধু হাড়িভাঙ্গা উৎপাদন হতে পারে পনের হাজার মেট্রিক টনের ওপর। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলে প্রতি কেজি হাড়িভাঙ্গা আম ৮০  থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এই হাড়িভাঙ্গা আমের জন্ম নিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ ঘটনা। প্রায় এক’শ বছর আগে যাত্রা শুরু হলেও এই আমের ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে নব্বই দশক থেকে। এদিকে হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ প্রসঙ্গে মিঠাপুকুরের  খোড়াগাছ ইউনিনের তেকানি গ্রামের  আমজাদ হোসেন জানান, প্রায় ৮০ বছর আগে তার বাবা নফল উদ্দিন মাসিমপুর এলাকার কুমোর বাড়ির পাশে জঙ্গল থেকে একটি আম গাছ কিনেন। আমটি খুবই সুস্বাদু হওয়ায় তৎকালীন আমলে ৫ টাকা দিয়ে সেই গাছের একশ আম কিনে আনেন নিজ বাড়িতে এবং আম খাওয়ার পর আমের আঁটি থেকে চারা গজায়। কুমোর বাড়ির পাশে ভাঙ্গা হাড়ির টুকরোর মাঝ খানে গাছটি জন্মেছিল বলে গাছটির নামকরণ করা হয় হাড়িভাঙ্গা। তখন থেকেই এই অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গা আমের যাত্র শুরু হয়।

এদিকে হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারন আব্দুছ ছালাম হাড়িভাঙ্গা আমের জন্ম সম্পর্কে  জানান, শতবছর আগে মিঠাপুকুরের  বালুয়া মাসুম পুর এলাকার জমিদার ছিলেন তাজ বাহাদুর সিংহ। তিনি খুব সৈখিন মানুষ ছিলেন। তার একটি ফলের বাগান ছিল। এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ছিল। পেশাদার কিছু আম ব্যাবসায়ী তার বাগান থেকে আম নিয়ে পদাগঞ্জ হাটে বিক্রি করতো। সেখান থেকে হয়তো নফেল উদ্দিন এই হাড়ি ভাঙ্গা আম ক্রয় করে আবাদ শুরু করেন।  হাড়ি ভাঙ্গা আমের জনক হিসেবে তিনি নফল উদ্দিনকেই স্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে হাড়িভাঙ্গ আমের সম্প্রসারক হিসেবে দাবি করেন।  তিনি জানান, ১৯৯২ সাল থেকে তিনি হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি এখন রংপুরে কয়েক লাখ হাড়িভাঙ্গা আমের গাছ রয়েছে। তার ২৫ টি আমের বাগান রয়েছে। তিনি আশা করছেন জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাড়িভাঙ্গা বাজারের বিক্রি করতে পারবেন। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, হাড়িভাঙ্গা আম যাতে চাষি ঠিক মত বাজারজাত করতে পাওে এনিয়ে সভায় হয়েছে। অনলাইন বুকিং,ডাকযোগে সেবা আরো বেশকিছু সেবা দেয়ার প্রস্তুতি দেয়া হয়েছে।