প্রভাবশালীরা বাড়ি-ঘর স্থাপন করে কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে দেবীগঞ্জে পানিতে ডুবছে অর্ধশত পরিবার

প্রভাবশালীরা বাড়ি-ঘর স্থাপন করে কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে দেবীগঞ্জে পানিতে ডুবছে অর্ধশত পরিবার

প্রভাবশালীরা বাড়ি-ঘর স্থাপন করে কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে দেবীগঞ্জে পানিতে ডুবছে অর্ধশত পরিবার

  
এএনবি পঞ্চগড় প্রতিনিধি ঃ সেই স্বরনকালের আটাশির ভয়াবহ বন্যায়ও পানি জমে থাকেনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী চরতিস্তাপাড়া এলাকায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বর্ষাকাল এলেই তাদের জলাবদ্ধতায় কাটাতে হচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। পানি যাতায়াতের নালার ওপর কালভার্ট বন্ধ করে তিন প্রভাবশালী বাড়ি তোলায় এই কৃত্রিম এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এবারও কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই এলাকার অর্ধশত পরিবার। গত পাঁচ দিন ধরে তারা পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের লোকজন কেউ তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। একই সঙ্গে পানি অপসারণের জন্য উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, রামগঞ্জ বিলাসীর বাজারের সড়কের পাশ দিয়ে একটি নালা ছিলো। উজানের পানি সেই নালা দিয়েই বের হয়ে নদীতে গিয়ে পড়তো। ওই নালায় বেশ কয়েটি কালভার্টও ছিল। রামগঞ্জ বিলাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থাকা কালভার্টটি ওই বিদ্যালয়ে পিয়ন নুর হক বন্ধ করে দিয়ে পাশেই বাড়ি তোলেন। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি তোলেন আয়নাল মিস্ত্রি ও সুমন খান। স্থানীয়ভাবে এই তিন ব্যক্তি বেশ প্রভাবশালীও। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালেও তাদের দাপটে পেরে উঠেনি তাঁরা। কারভার্ট বন্ধ করে বাড়ি তুললেও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
ওই এলাকার বৃদ্ধ মহির উদ্দিন বলেন, আটাশির বন্যায়ও আমাদের এখানে জলাবদ্ধতা হয়নি। পানি যাওয়ার কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ায় এখন আমাদের ঘরবাড়িতে পানি এক হাঁটু পানি উঠছে। গরু ছাগল মানুষ এক ঘরেই থাকছি। নদীতেও তেমন পানি নেই। বিনা বন্যায় আমরা এখন পানিতে ভাসছি। কেউ আমাদের কোন খোঁজ নিচ্ছে না। এমনকি এই পানি বের করারও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।গৃহবধূ মানিকজান বলেন, ঘরে পানি, বাইরে পানি। কোথাও যেতে পারছি না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খাটের ওপর বসে থাকি। পাশের গ্রামের আমার বোনের বাড়ি থেকে একবেলা রান্না করে দেয়, সেই খাবার খেয়েই আছি।কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, এই তিন প্রভাবশালীর কারণে আমরা ডুবে মরছি। আমাদের ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। সবার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার পুকুরের মাছ বেরিয়ে গেছে। এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? প্রতিবছর কি আমারা এভাবেই দুর্ভোগে দিন কাটাব? টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সরকার বলেন, আসলেই কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়ায় ওই এলাকার মানুষেরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জমিটি ব্যক্তি মালিকানা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে এবার পানি কমে গেলে মূল সড়কে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে এই পানি বের হওয়ার একটি ব্যবস্থা করে দেব আমরা।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান বলেন, গত ২ জুলাই প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দেবীগঞ্জের অনেক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় একটি এলাকা অর্ধশত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এলাকাটি পরিদর্শনসহ আমরা পানিবন্দি মানুষদের সহযোগিতায় প্রয়াজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।