সামাজিক দুরত্বের নেই ক্রেতা ও বিক্রেতার রংপুরের করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে পাড়া মহল্লাগুলোতে

সামাজিক দুরত্বের নেই ক্রেতা ও বিক্রেতার রংপুরের করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে পাড়া মহল্লাগুলোতে

সামাজিক দুরত্বের নেই ক্রেতা ও বিক্রেতার রংপুরের করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে পাড়া মহল্লাগুলোতে


এএনবিঃ আসাদুজ্জামান আফজাল, রংপুর
করোনা ভাইরাসের ক্রমর্বদ্ধমান প্রার্দূভাবে রংপুর জেলার ৮ উপজেলাসহ মহানগরীর অধিকাংশ পাড়া-মহল¬ার নতুন এলাকায় নানা পেশার মানুষ আশংকাজনক ভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশ, ডাক্তার, ব্যাংকার, এবং নার্সের সংখ্যাই বেশী। রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে রংপুর জেলায় ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২১২ জনে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. একেএম নুরুন্নবী লাইজু। রমেকের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের পিসিআর ল্যাবে ১৮৮টি নমুনার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতে রংপুরসহ তিন জেলার ৩১ জনের নমুনায় করোনা শনাক্তের পজেটিভ ফল এসেছে। এদের মধ্যে দশজন আনসার ও পাঁচ পুুলিশ সদস্যসহ একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ পুলিশ সদস্য, পুলিশ লাইন্সের এক পুলিশ সদস্য, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের ১০ জন আনসার, রংপুর নগরীর নিউ জুম্মপাড়া এলাকার ৬ জন, নগরীর কামারপাড়া, বাহার কাছনা, ধাপ লালকুঠি, সাতগাড়া, মেডিকেল পশ্চিম গেট এলাকায় ১ জন করে এবং পীরগঞ্জ ও পীরগাছা উপজেলায় দুইজন রয়েছেন। এদের মধ্যে মেডিকেল পশ্চিম গেট এলাকার আক্রান্ত ব্যক্তি ফার্মাসিস্ট।  এছাড়াও কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার ১ জন করে এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন লালমনিরহাট জেলায় ১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে এ ৩১ জন আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশ, আনসার, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া এলাকার মধ্যে নগরীর ধাপ, সেনপাড়া এবং শালবন এলাকায় সবচেয়ে বেশী।  এসব পাড়ার প্রায় ১০ জনের অধিক করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই আবার সুস্থ্য হয়ে নিজ কর্মে ফিরেছেন। তথ্যে জানা গেছে, রংপুর নগরীর লালবাগ কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাস, দর্শনা,  ২০ মেগাওয়াট বিনোদপুর হলদিটারী,  দক্ষিন বাবুখাঁ, উত্তর বাবুখাঁ, গণেশপুর, আর্দশ পাড়া,  সেনপাড়া,  মুলাটোল  মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানা,  হাবিব নগর আকালী টারী, খামার পাড়া, দেওয়ান বাড়ি রোড, দক্ষিন ঠিকাদার পাড়া, উত্তর  নূরপুর, রর্বাটসন গঞ্জ, মন্ডল পাড়া, তাজহাট, মাহিগঞ্জে পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স এরিয়া,  মাহিগঞ্জ, তামপাট নগর মীরগঞ্জ, রংপুর পুলিশ লাইন, জুম্মাপাড়া, আমাশু কুকরুল, আমাশু উত্তর পাড়া, পশ্চিম নীলকন্ঠ, কেল¬াবন্দ, পাগলাপীর,  চন্দন পাট, খটখটিয়া, চওড়াপাড়া, হারাগাছ, শালবন মিস্ত্রীপাড়া, রাধাবল¬ভ, কটকীপাড়া, কেরানী পাড়া, মুন্সীপাড়া, খলিফা পাড়া, আরকে রোড, আরকে রোড স্বপ্নচুড়া এলাকা, আরকে রোড ইসলামবাগ এলাকা, কেন্দ্রীয় কারাগার,  ধাপ লালকুঠি, ধাপ কাকলী লেন, ধাপ হাজী পাড়া, ধাপ সাগর পাড়া, ধাপ মাষ্টার পাড়া, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস, মেডিকেল পাকার মাথা, মেডিকেল পূর্বগেট,  ধাপ চিকলী ভাটা, এলাকার কোথাও একজন এবং কোথাও বা একাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে।করোনা প্রতিরোধে নাগরিক কমিটির আহবায়ক ফকরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুরে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা রুখতে অবিলম্বে মার্কেট, শপিংমলসহ সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করতে জেলা প্রশাসকের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। ১০ মে সরকারি নির্দেশনায় সীমিত আকারে মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণায় পরিস্থিতি উল্টো হতে শুরু করে। আমরা লক্ষ্য করছি সীমিত আকারে দোকানপাট ও মার্কেট খোলার কথা ও কিছু নির্দেশনা মেনে চলার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। মার্কেটে প্রচুর মানুষজন যাতায়াত করছে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই উদাসীন। নগরীর দোকানপাট, শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ করা জরুরি। না হলে বড় বিপদের সম্মুখীন হবো আমরা রংপুরবাসী। রংপুর সিটি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আলী হোসেন ছোট বাবু বলেন, করোনা আমাদের নৈতিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আমরা গাফিলতি করলে লাশের সারি বাড়বে। দেশের অনেক জেলার চেয়ে আমরা ভয়ঙ্কর অবস্থায় রয়েছি। জীবন যদি না বাঁচে, কেনাকাটা করে কি হবে। মার্কেট বন্ধ করে কমপক্ষে ১৫ দিন কারফিউ দেয়া জরুরী। সামাজিক দুরুত্ব মানা হচ্ছে না। নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর ও নড়াইল জেলায় করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব জেলার পরিকল্পনা আমাদের দেখতে হবে। রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ভ কুমার বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা না বাড়লে বিপদ আমাদেরই আসবে। জনসমাগমস্থলে মাস্ক পড়া জরুরী। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, বিভিন্ন বিপনী বিতানগুলোসহ সর্বত্র সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে নজরদারী রাখা হচ্ছে। এটি আরো বাড়ানো হবে।